-->

সাঁওতাল ও কুকা আন্দোলন/ বিদ্রোহ

Protijogi
By -
0

ভারতের বিভিন্ন উপজাতি বিদ্রোহ

সাঁওতাল বিদ্রোহ: বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) প্রবর্তন এর ফলে সাঁওতাল শ্রেণীর উপর জমিদার ও মহাজনদের অত্যাচার বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। যেহেতু জমিদার ও মহাজন শ্রেণী ইংরেজ সরকারের সমর্থনে সব সময় ইংরেজদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাই এদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার অর্থ ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা।

১৮৮৫ সালের 30 শে জুন সিধু ও কানুর নামে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় ভাগনা দিঘির মাঠে। এই বিদ্রোহের অন্যতম নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন কালো প্রমাণিক, বীর সিং মাঝি, গোক্কো, ডোমন মাঝি প্রমূখ। সমগ্র রাজমহল অঞ্চল এবং রাজমহল থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা সাঁওতালদের দখলে চলে আসে। ১৬ ই জুলাই ১৮৫৫ পিরপাইতির কাছে মেজর বরোজ নামক জনৈক ইংরেজ সেনাপতি সাঁওতালদের হাতে নিহত হন। ২৭শে জুলাই খয়রাশোল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বিদ্রোহীদের অত্যাচারে ইংরেজি লেফটেন্যান্ট টোলমেন ও 13 জন সিপাহী নিহত হন এবং ইংরেজরা পালিয়ে যায়। এরপর বিদ্রোহের নেতারা "সুবা রাজত্বে" র ঘোষণা করে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘোষণা করে।

এই যুদ্ধ বা বিদ্রোহ ১৮৫৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে। ইংরেজদের ৫৫ নম্বর পদাতিক বাহিনী এই বিদ্রোহ নির্মমভাবে দমন করে এবং পরাজিত সাঁওতালদের উপরে অমানুষিক অত্যাচার করে।বিদ্রোহের ফলস্বরূপ তিন বছরের জন্য সাঁওতাল পরগনায় মহাজনদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয় তবে ভূমি রাজস্ব কিন্তু আদৌ কমানো হয় নি। সর্বোপরি সাঁওতালদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারের নীতি গ্রহণ করা হয়।

কুকা আন্দোলন: কুকা আন্দোলন মূলত ইংরেজদের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জনগণের একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল  দুটি- ১) ধর্মীয় উদ্দেশ্য ( শিখ ধর্মেের পুনর্গঠন) ২) রাজনৈতিক উদ্দেশ্য( ব্রিটিশদের বিতাড়িত করে এক অখণ্ড পাঞ্জাব রাষ্ট্র গঠন)। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন ভগৎ জওহর মাল যিনি সিয়ান সহিব নামে পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তার শিষ্য বালক সিং। তবে এই আন্দোলন প্রকৃত বাস্তব রূপ পায়়় রাম সিংয়ের তত্ত্বাবধানে(১৮৬৩)। যিনি  "সুবা" বা "নায়েব সুবা" দের নিযুক্ত করে বিভিন্নন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করেন। জাট জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিদের নিযুক্ত করেন সাধারণ মানুষদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। তবে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের টলাতে পারেনি। এই আন্দোলন ও অন্যান্য আন্দোলনের মতো ব্রিটিশ বাহিনী নির্মমভাবে দমন করে। রাম সিং কে রেঙ্গুনের জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যেখানে ১৮৮৫ সালে তার মৃত্যু হয়।

কুকা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরে তারা গুরু গোবিন্দ সিং কে একমাত্র গুরু হিসেবে মেনে নেন। নিজেদের জীবন যাপনে অনেক সংস্কার করা হয়- তারা যুদ্ধ পরিহার করে,মদ ,মাংস এবং সমস্ত নেশাদ্রব্য থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করে । জাতিভেদ প্রথা এবং বর্ণ প্রথা কে অস্বীকার করে।

 



Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)