-->

জাতীয় তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি কমিশন

protijogi
By -
0
জাতীয় তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি কমিশন

প্রেক্ষাপট : প্রাথমিক অবস্থায় ভারতের মূল সংবিধানে জাতীয় তপশিলি জাতি ও জনজাতি কমিশনের কোনো উল্লেখ ছিল না । মূল সংবিধানের 338 ধারায় তপশিলি জাতি ও জনজাতি দের উন্নয়নকল্পে রাষ্ট্রপতি দ্বারা একজন বিশেষ আধিকারি ( special officer ) নিয়োগের কথা বলা হয় । 

              1978 সালে প্রশাসনিক প্রস্তাবের দ্বারা একটি বহু সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠন করা হয় ।

             1971 সালে গঠিত বহু সদস্য বিশিষ্ট কমিশন টি 1987 সালে তপশিলি জাতি ও জনজাতি কমিশন নামে আত্মপ্রকাশ করে । 

        1992 সালের 12 ই মার্চ 65 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তপশিলি জাতি ও জনজাতি কমিশনের সাংবিধানিক রূপ দেওয়া হয় এবং 2003 সালে 89 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে 2004 সালের 19 ফেব্রুয়ারি জাতীয় তপশিলি কমিশন ও জাতি ও তপশিলি উপজাতি কমিশন কে পৃথক করা য়।

 জাতীয় তপশিলি কমিশন 

 গঠন : জাতীয় তপশিলি কমিশন সম্পর্কে ভারতীয় সংবিধানের 338 নং ধারায় (part 16) আলোচনা করা হয়েছে । সুতরাং এটি একটি constitutional body বা সাংবিধানিক সংস্থা ।

       জাতীয় তপশিলি কমিশন একজন সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি ও অন্যান্য 3 জন সদস্য মোট 5 জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় । 

 সভাপতি সমেত সকল সদস্য কে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন । 

 জাতীয় তপশিলি কমিশন সামাজিক ন্যায় ও সশক্তিকরণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে ।

 প্রধান কার্যালয় ----- নতুন দিল্লি

 বর্তমান সভাপতি ---- রামশংকর কাঠেরিয়া

 বর্তমান সহ-সভাপতি ------ এল্ মুরগান

  জাতীয় তপশিলি কমিশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন সূর্যভান সিং এবং পি এল্ পুনিয়া পরপর দুইবার কমিশনের সভাপতির পদ লাভ করেন । 

সদস্যদের মেয়াদ : জাতীয় তপশিলি কমিশনের সদস্যরা তিন বছরের জন্য নিযুক্ত হন এবং এক ব্যক্তি সর্বাধিক দুইবার মনোনীত হতে পারেন ।

 সদস্যদের পদমর্যাদা : জাতীয় তপশিলি কমিশনের সভাপতি একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন এবং সহ-সভাপতির পদমর্যাদা একজন রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদমর্যাদার সমান । এই কমিশনের সাধারণ সদস্যরা কেন্দ্রীয় সচিবের সমান পদমর্যাদা ভোগ করেন ।

 রিপোর্ট পেশ : এই কমিশন প্রত্যেক বছর তপশিলি জাতি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতিকে পেশ করে । কোন রাজ্যের বিষয় সম্পর্কিত রিপোর্ট কমিশন উক্ত রাজ্যের রাজ্যপাল কে পেশ করে । রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্টটি লোকসভায় এবং রাজ্যপাল রিপোর্টটি বিধানসভায় পেশ করেন ।

  জাতীয় তপশিলি কমিশন সিভিল কোর্ট এর ক্ষমতা ভোগ করে । 

 জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশন 

 2003 সালের 89 তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে 2004 সালের 19 ফেব্রুয়ারি তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি কমিশনের পৃথকীকরণ করা হয় এবং স্বতন্ত্র রূপে তপশিলি জনজাতি কমিশনের গঠন করা হয় । 

 গঠন :   জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশন সম্পর্কে সংবিধানের 338 এর(A) নং ধারায় (part 16) বর্ণনা করা হয়েছে । সুতরাং এটি একটি সাংবিধানিক সংস্থা বা constitutional body . 

 একজন সভাপতি একজন সহ-সভাপতি ও তিনজন সাধারণ সদস্য মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে জাতীয় তপশিলি উপজাতি কমিশন গঠিত হয় । 

 সভাপতি সহ সকল সদস্য কে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করে ।

 এই কমিশন তপশিলি জনজাতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজ করে । 

 প্রধান কার্যালয় : নতুন দিল্লি । 

 সভাপতি : ( পদ শূন্য ) 

 সহ-সভাপতি : ( পদ শূন্য ) 

  জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশনের প্রথম সভাপতি কুয়ার সিং টেকাম । উর্মিলা সিং প্রথম ও একমাত্র মহিলা সভাপতি এবং ড. রামেশ্বর ওরাং পরপর দুইবার সভাপতি নিযুক্ত হন । 

 সদস্যদের কার্যকাল : জাতীয় জনজাতি কমিশনের সদস্যরা তিন বছরের জন্য নিযুক্ত হন । একজন সদস্য সর্বাধিক দুইবার মনোনীত হতে পারেন । 

 কমিশনের সদস্যদের চাকরির শর্তাবলী ও বেতন কাঠামো রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন ।

 সদস্যদের পদমর্যাদা : জাতীয় জনজাতি কমিশনের সভাপতি একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন এবং সহ-সভাপতি একজন রাষ্ট্রমন্ত্রীর সমমর্যাদা ভোগ করেন । সাধারণ সদস্যরা কেন্দ্রীয় সচিবের সমান পদমর্যাদা ভোগ করেন । 

 রিপোর্ট পেশ : জাতীয় জনজাতি কমিশন প্রত্যেক বছর রাষ্ট্রপতি কে রিপোর্ট পেশ করে । রাজ্যের বিষয় সম্পর্কিত কোন রিপোর্ট কমিশন উক্ত রাজ্যের রাজ্যপাল এর কাছে পেশ করেন । রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্টটি লোকসভায় এবং রাজ্যপাল রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় পেশ করেন । 

  জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশন সিভিল কোর্টের ক্ষমতা ভোগ করে ।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)