-->

রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন

protijogi
By -
0

 


প্রেক্ষাপট : সংবিধানের 340 নং ধারায় বলা হয় রাষ্ট্রপতি সামাজিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিশন গঠন করবেন ।

 1953 সালে 29 শে জানুয়ারি কাকা কলেলকর এর সভাপতিত্বে প্রথম অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন গঠিত হয় । 

1979 সালে বিন্দেশ্বরি প্রসাদ মন্ডল এর সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অনগ্রসর শ্রেণী কমিশন গঠিত হয় । 1980 সালে দেওয়া রিপোর্টে কমিশন অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি চাকরিতে 27% সংরক্ষণের কথা বলে, যা 1990 সাল থেকে চালু হয় । 

 এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কে কেন্দ্র করে দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এর বিরুদ্ধে 1992 সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয় যা ইন্দিরা সাহানি মামলা নামে পরিচিত । এই মামলাটিকে মন্ডল মামলা বলেও অভিহিত করা হয়। 

 এই মামলার ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে ।

 (1) রায় দানকালে সুপ্রিম কোর্ট বলে যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা কোনভাবেই 50 শতাংশের বেশি হবে না ।

 (2) সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের চিহ্নিত করার জন্য এবং তাদের সামাজিক অবস্থা নিরীক্ষণ এর জন্য একটি স্থায়ী অনগ্রসর কমিশন গঠন করার নির্দেশ দেন । 

 *এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে পূর্বে উল্লিখিত 1953 এবং 1979 সালে যে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল তা ছিল অস্থায়ী কিন্তু 1992 সালে ইন্দিরা সাহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করার কথা বলে । 

 1993 সালে সালের রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন অধিনিয়ম এর দ্বারা 1993 সালে রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন গঠন করা হয় । যেহেতু এই কমিশনটি একটি রাষ্ট্রীয় আইনের দ্বারা গঠন করার কথা বলা হয়েছিল ফলে এটি একটি আইনি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার রূপ লাভ করে ।

 2018 সালে 102 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ( অধ্যায় 16 ধারা 338,/B ) রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং তখন থেকে এটি একটি constitutional body বা সাংবিধানিক সংস্থায় পরিণত হয় ।

 * 1993 সালে রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণী অধিনিয়ম এর দ্বারা 14 ই আগস্ট 1993 সালে কমিশন গঠিত হয় ।

 * 2018 সালে 102 তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কমিশন সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে । 

 প্রকৃতি : constitutional body / সাংবিধানিক সংস্থা ।

 প্রধান কার্যালয় : নতুন দিল্লি।

 কমিশনের গঠন : 338 /B (1) ধারায় সামাজিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় এর জন্য রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে ।

 338 / B (1) ধারায় একজন সভাপতি একজন সহ-সভাপতি ও অন্যান্য তিন জন মোট 5 জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে । সভাপতি সমেত সকল সদস্য কে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন । এছাড়া সদস্যদের চাকরির শর্ত নিয়োগ কার্যকাল বেতন কাঠামো সব রাষ্ট্রপতি ঠিক করবেন বলে বলা হয়েছে ।

 সভাপতি সহ সকল সদস্যদের মেয়াদ 3 বছর এবং এক ব্যক্তি সর্বাধিক দুইবার মনোনীত হতে পারেন ।

 বর্তমান সভাপতি : শ্রী ভগবান লাল সাহানি ।

 বর্তমান সহ-সভাপতি : ড. লোকেশ কুমার প্রজাপতি ।

 * রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজ করে ।

 * এই কমিশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন আর এন প্রসাদ ।

 * কমিশন প্রতিবছর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করে এবং কোন রাজ্যের বিষয় সম্পর্কিত বিষয়ে উক্ত রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট পেশ করে । রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্ট লোকসভায় এবং রাজ্যপাল রিপোর্টটি উক্ত রাজ্যের বিধানসভায় পেশ করেন ।

 * রাষ্ট্রীয় অনগ্রসর শ্রেণী কমিশন সিভিল কোর্ট (দেওয়ানী ) এর ক্ষমতা ভোগ করে ।

 * 338 / B (9) ধারায় বলা হয়েছে কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকার যদি কোনো আইন তৈরি করে যা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তাহলে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেন ।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)